Skip to main content

জীবন, মৃত্যু এবং মুমিনের প্রার্থনা।



ভূমিকা:

মৃত্যু জীবনের অনিবার্য পরিণতি। প্রত্যেকেই একদিন মৃত্যুর মুখোমুখি হবে। তবে, সুন্দর ও স্বাভাবিক মৃত্যুই সকলের প্রত্যাশা। কিন্তু বাস্তবতা হল, অনেকেই কষ্টকর ও দুর্ঘটনাকবলিত মৃত্যুর সম্মুখীন হয়।

ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি:

ইসলামে বিশ্বাস করা হয় যে, মানুষের মৃত্যু আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। তাই, দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু হলে তাকে হেয় করার সুযোগ নেই। বরং, আল্লাহর দরবারে বিশ্বাসী ব্যক্তির কষ্টকর মৃত্যুর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।

হাদিসের আলোকে:

• আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "পানিতে ডুবে, কলেরায়, প্লেগে, ভূমিধসে বা চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তিরা শহীদ।" (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২০)

• রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, "যে আল্লাহর পথে নিহত হয় সে শহীদ, যে আল্লাহর পথে মারা যায় সে শহীদ, যে প্লেগ রোগে মারা যায় সে শহীদ, যে পেটের রোগে প্রাণ হারায় সে শহীদ এবং যে পানিতে ডুবে মারা যায় সেও শহীদ।" (রিয়াজুস সালিহিন, হাদিস: ১৩৬২)

কষ্টকর মৃত্যু থেকে আশ্রয় প্রার্থনা:

ইসলাম দুর্ঘটনায় মৃতদের শহীদের মর্যাদা দিলেও, এমন মৃত্যু কখনোই কাম্য নয়। বরং, একজন মুমিনের উচিত কষ্টকর মৃত্যু থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা।

• রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করতেন, "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যু থেকে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গর্তে পড়ে মৃত্যু থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া থেকে এবং অতি বার্ধক্য থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মৃত্যুর সময় শয়তানের প্রভাব থেকে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মারা যাওয়া থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ থেকে।" (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস: ১৫৫২)

• রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বাভাবিক মৃত্যুর কষ্ট থেকেও আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৫৫১২)

উপসংহার:

জীবন মাত্রই মৃত্যুর অপেক্ষায়, তবে একজন মুমিনের উচিত সুন্দর ও স্বাভাবিক মৃত্যুর প্রত্যাশা করা।

Comments

Popular posts from this blog

বিব্রত সিয়াম, জানালেন ছবি নামিয়ে ফেলার আবেদন

 অভিনেতা সিয়াম আহমেদ সম্প্রতি তার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নামিয়ে ফেলার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি জানান, ছবিটি ভুলভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি তার ব্যক্তিগত জীবনে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সিয়াম বলেন, "আমি আমার ভক্তদের এবং অনুসারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে অনুরোধ করছি, দয়া করে এই ছবি এবং এর সাথে সম্পর্কিত পোস্টগুলো সরিয়ে ফেলুন।" তিনি আরও বলেন, "আমরা সবাই মানুষ এবং আমাদের সকলেরই ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার আছে।" সিয়ামের এই আবেদন সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘায়ুর জন্য প্রতিদিনের খাদ্যাভাস।

 দীর্ঘায়ুর জন্য প্রতিদিনের খাদ্যাভাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং নীতি অনুসরণ করা উচিত। এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো: 1. ফল এবং সবজি : প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে তাজা ফল ও সবজি খাওয়া উচিত। এগুলো ভিটামিন, মিনারেল এবং ফাইবার সমৃদ্ধ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখে। 2. সম্পূর্ণ শস্য : পরিশোধিত শস্যের পরিবর্তে সম্পূর্ণ শস্য যেমন বাদামী চাল, ওটস, এবং সম্পূর্ণ গমের রুটি খাওয়া ভালো। এগুলোতে ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। 3. প্রোটিন : স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎস যেমন মাছ, মুরগি, ডাল, বাদাম, এবং সয়াবিন খাওয়া উচিত। লাল মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া সীমিত করা উচিত। 4. স্বাস্থ্যকর চর্বি : স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাট এড়িয়ে, অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো, এবং বাদাম তেল এর মতো মনোআনস্যাচুরেটেড এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করা উচিত। 5. কম চিনি এবং লবণ : চিনি এবং লবণের পরিমাণ কমানো স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। 6. পর্যাপ্ত পানি : প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা জরুরি। এটি শরীরের তাপমাত্রা ন...

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" এর অর্থ হল "আমরা আল্লাহর এবং আমরা অবশ্যই তাঁর কাছেই ফিরে যাবো।"

"ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন" এর অর্থ হল "আমরা আল্লাহর এবং আমরা অবশ্যই তাঁর কাছেই ফিরে যাবো।" এই বাক্যটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত: ইন্নালিল্লাহি: এর অর্থ "আমরা আল্লাহর" ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন: এর অর্থ "আমরা অবশ্যই তাঁর কাছেই ফিরে যাবো" এই বাক্যটি মুসলমানরা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করে, যেমন: কোন প্রিয়জনের মৃত্যুর সময়: প্রিয়জনের মৃত্যুর সময় মুসলমানরা ধৈর্য ধরার জন্য এবং আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি সমর্পণ প্রকাশ করার জন্য এই বাক্যটি উচ্চারণ করে। কোন বিপদ-আপদে পতিত হলে: বিপদ-আপদে পতিত হলে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে সাহায্যের জন্য এই বাক্যটি উচ্চারণ করে। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য: আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য মুসলমানরা এই বাক্যটি উচ্চারণ করে। এই বাক্যটি উচ্চারণ করার মাধ্যমে মুসলমানরা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো স্বীকার করে: সবকিছু আল্লাহর মালিকানাধীন: এই পৃথিবীর সকল কিছু আল্লাহর মালিকানাধীন এবং আমরা সকলেই তাঁর বান্দা। আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবো: একদিন আমরা সকলেই মারা যাবো এবং আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে ফিরে যাবো। আল্লাহর ই...